Top

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

HSC Autopass Result 2020- Good News 2021-2020 এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল, ফেল থাকবে না কেউ!

 


২০২০ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা হবে না। জেএসসি ও সমমান এবং এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের গড় মূল্যায়ণ করেই এইচএসসি পরীক্ষার ফল নির্ধারণ করা হবে।

আর এই ফল প্রকাশ করা হবে ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। কিছুদিন ধরে মন্ত্রণালয় থেকে বলা হচ্ছিলো এইচএসসি পরীক্ষা বাতিলের সুযোগ নেই। গত সপ্তাহেও সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়সভায় পরীক্ষা নেয়ার পক্ষে যুক্তিও তুলে ধরেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। ঠিক এক সপ্তাহ পরের শিক্ষামন্ত্রীর এই ঘোষণা চমকে দিয়েছে দেশবাসীকে।

গতকাল বুধবার এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এবারের পরীক্ষা না নেয়ার সিদ্ধান্তটি জানান। এবারের পরীক্ষা না নেয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রীর যুক্তি হলো, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে পরীক্ষা নেয়া যাচ্ছে না । মন্ত্রী বলেন, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় মূলত শিক্ষাক্রমের আলোকে শিখন অর্জনটা কোন অবস্থায় আছে সেটা যাচাইয়ের জন্য। এই পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে দেশে এবংবিদেশে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয় আমাদের শিক্ষার্থীরা। আবার অনেকে চাকরি জীবনে প্রবেশ করে। পরীক্ষা শেষ করে একটি সনদ তারা পান। মন্ত্রী বলেন, কখন পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে এর কোনো নিশ্চয়তা নেই। এমন পরিবেশে কীভাবে পরীক্ষা গ্রহণ করা যায় সেটাও একটা চ্যালেঞ্জ। দুটি বিষয় খেয়াল করতে হয় যে কোনো পরিমার্জনসহ পরীক্ষা পদ্ধতির যথার্থতা এবং নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা।

পরীক্ষা চলাকালে স্বাস্থ্যঝুঁকি কীভাবে হ্রাস করা যায় বা এড়ানো যায়। মন্ত্রী পরীক্ষা না নেয়ার বিষয়ে যুক্তি দিয়ে বলেন, ২ হাজার ৫৭৯ কেন্দ্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হয়। এই পরীক্ষা গ্রহণের জন্য ৩০ থেকে ৩২ কর্মদিবসের প্রয়োজন। পরীক্ষার সময় এক বেঞ্চে দুজন শিক্ষার্থীর আসন দেয়া হয়। করোনায় স্বাস্থ্য ঝুঁকি পরিস্থিতি বিবেচনায় এক বেঞ্চে দুজন আসন দেয়া সম্ভব নয়। এ কারণে দ্বিগুণ কেন্দ্র প্রয়োজন হবে। প্রশ্নপত্র প্যাকেটজাত হয়েছিলো।

প্যাকেট ভেঙে নতুন প্যাকেট করা সম্ভব নয়। কেন্দ্রসংখ্যা দ্বিগুণ করাও সম্ভব নয়। বিষয় কমিয়ে বা নম্বর কমিয়েও উচ্চ মাধ্যমিকের পরীক্ষা নেয়া যায়। তবে যে বিষয় কমিয়ে নেবো, দেখা যাবে কোনো শিক্ষার্থী ওই বিষয়ে ভালো প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলো। তাহলে ওই পরীক্ষার্থী ভাবতে পারে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। মন্ত্রী বলেন, যখন পরীক্ষা শুরু হবে তখন পরীক্ষার্থী বা তার পরিবারের কেউ আক্রান্ত হলে ওই পরীক্ষার্থী কী করবে।

সে নিশ্চয়ই পরীক্ষা কেন্দ্রে আসতে পারবে না বা আসা একেবারেই উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে পরীক্ষা না নেয়ার পক্ষে বিভিন্ন দেশের উদাহরণ টেনে আনেন মন্ত্রী। পরীক্ষা না নেয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী আরো বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজনের বিষয়ে পরীক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। তাদের কাছে আমরা মতামত ও পরামর্শ নিয়েছি।

২০১৯ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে কিংবা পুরো ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার যারা প্রস্তুতি নিয়েছিলো, তাদের ক্ষেত্রে কীভাবে মূল্যায়ন করা হবে এমন প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সব শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে একইভাবে মূল্যায়ন করে তাদের গ্রেড নম্বর দেয়া হবে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কী পদ্ধতিতে গ্রেড নির্ধারণ করা হবে সেটি নির্ধারণ ও পরামর্শের জন্য সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়,

বুয়েট, শিক্ষা বোর্ড ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি টেকনিক্যাল কমিটি গঠন করা হবে। তাদের আগামী নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে প্রতিবেদন দিতে বলা হবে। তিনি বলেন, ‘সরাসরি পরীক্ষা না নিলেও আমরা আন্তর্জাতিক পদ্ধতিতে পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ফল প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।

তবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কী পদ্ধতিতে ভর্তি করা হবে সে বিষয়েও টেকনিক্যাল কমিটির কাছে পরামর্শ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’ ফরম পূরণ করা সবাই পাশ: এবার এইচএসসি-সমমান পরীক্ষায় ১৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৮৯ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণের কথা ছিল। এর মধ্যে নিয়মিত ১০ লাখ ৭৯ হাজার ১৭১ এবংঅনিয়মিত ২ লাখ ৬৬ হাজার ৫০১ জন। গতবারের ফেল করাও সবাই পাশ: গতবার যারা ফেল করেছে, তাদেরও জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হবে। গত বছর উচ্চ মাধ্যমিকে ফেল করেছিলেন ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৭ জন শিক্ষার্থী, যারা এবার আর কোনো পরীক্ষায় অংশ না নিলেও উচ্চ মাধ্যমিকের সনদ পাবেন।

Post a Comment

0 Comments