Top

6/recent/ticker-posts

Header Ads Widget

সংক্রমণের হার না কমা পর্যন্ত সবাই ঝুঁকিতে !!

 

  1. করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে এসেছে নতুন ধরেনর ভাইরাস। সংক্রমণ ও উপসর্গেও এসেছে পরিবর্তন।
  2. রক্ত জমাট যদি হার্টে হয়, তবে হার্ট ফেইলিউর হতে পারে, ব্রেনে হলে স্ট্রোক হতে পারে, যদি কিডনিতে হয় তবে কিডনি ইনফেকশন হতে পারে।

সারা বিশ্বে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে আবারও লকডাউন বা সর্বোচ্চ সতর্কতা জারির চিন্তা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ব্রিটেনে দেখা দিয়েছে নতুন ধরনের করোনাভাইরাস, যার সংক্রমণ ও উপসর্গেও এসেছে পরিবর্তন।
করোনায় রোগীদের নানা ধরনের স্বাস্থ্য জটিলতা এবং এর প্রতিকার নিয়ে প্রথম আলো আয়োজন করে এসকেএফ নিবেদিত স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ অনুষ্ঠান ‘হৃদয়ের সুরক্ষা’। অনুষ্ঠানটির ষষ্ঠ পর্বে ডা. বিলকিস ফাতেমার সঞ্চালনায় অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল কার্ডিওলজি ও হার্ট ফেইলিউর বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হারিসুল হক।অনুষ্ঠানটি ২১ ডিসেম্বর প্রথম আলোর ও এসকেএফের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণের বিষয়ে অধ্যাপক হারিসুল হক বলেন, ‘আমরা এমন সময় কথা বলছি, যখন ব্রিটেনে নতুন ধরনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে এবং ব্রিটেনের সঙ্গে অন্যান্য দেশ তাদের যোগাযোগ বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। ভাইরাস যেকোনো সময় তার চরিত্র পরিবর্তন করতে পারে, এটি আমরা জানি। আর করোনাভাইরাস এর আগেও তার কিছু কিছু ধরন পরিবর্তন করেছে। এর সংক্রমণ ও উপসর্গেও কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। বিশেষ করে শীতপ্রধান দেশগুলো, যেখানে করোনার দ্বিতীয় প্রবাহ চলছে। আমাদের দেশে দ্বিতীয় প্রবাহ শুরু হয়েছে, নাকি প্রথম প্রবাহই ধারাবাহিক, এটি নিশ্চিত করে বলা না গেলেও আমরা ধরেই নিয়েছি, এটি দ্বিতীয় প্রবাহ।’

করোনার নতুন উপসর্গ নিয়ে অধ্যাপক হারিসুল হক বলেন, করোনার শুরুতে যে উপসর্গগুলো ছিল, যেমন তীব্র জ্বরের সঙ্গে জ্বর, সর্দি, গলাব্যথা, স্বাদ-গন্ধ না পাওয়া—এগুলো আছে; তবে কিছু নতুন উপসর্গ দেখা যাচ্ছে, যেমন কোনো কোনো রোগী সরাসরি হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন, কারও চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে, ডায়রিয়া বা পাতলা পায়খানা দেখা যাচ্ছে। কিছু কিছু রোগী আসছেন খিঁচুনি নিয়ে, ছন্দহীনতা, ভুলে যাওয়া, এমনকি উদ্বেগ বা মানসিক রোগ নিয়েও করোনা রোগীরা আসছেন। আবার যাঁরা করোনায় আক্রান্ত ছিলেন, তাঁরাও দীর্ঘমেয়াদি নানা উপসর্গে ভুগছেন। তিনি বলেন, আমরা এখনো জানি না, তাঁরা কত দিন পর্যন্ত ভুগবেন। অনেকের হৃদ্‌রোগ, কিডনি রোগ, শ্বাসকষ্ট, মানসিক অস্থিরতা করোনায় আক্রান্তের পর থেকে শুরু হচ্ছে। এ বিষয়েও সচেতনতা প্রয়োজন। আর করোনার সময় সবচেয়ে জরুরি বিষয়গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে রক্ত জমাট বাঁধা।

ঝুঁকিপূর্ণ রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে এবং কয়েকটি পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে। যেমন শ্বাসকষ্ট পালমোনারি এম্বলিজমের দিকে যাচ্ছে কি না, পায়ে রক্ত জমাট বাঁধছে কি না। কিছু ব্লাড টেস্ট করা হয় শুধু রক্ত জমাট বাঁধার সম্ভাবনা নির্ণয়ের জন্য।
রক্ত জমাট যদি হার্টে হয়, তবে হার্ট ফেইলিউর হতে পারে, ব্রেনে হলে স্ট্রোক হতে পারে, যদি কিডনিতে হয় তবে কিডনি ইনফেকশন হতে পারে। রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করতে দুই রকমের অ্যান্টি-ক্লগনেন্ট ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। একটি মুখে খাওয়ার আর অন্যটি শিরা বা চামড়ার নিচে দিতে হয়। তবে কোনো ওষুধই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।

শিশুদের করোনায় আক্রান্ত হওয়া নিয়ে অধ্যাপক হারিসুল হক বলেন, শুরুতে বলা হতো, করোনা শিশুদের আক্রান্ত করতে পারে না। কিন্তু সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ঘোষণা দিয়েছে, করোনা শিশুদেরও আক্রান্ত করতে পারে। বিশেষ করে নতুন ধরনের করোনাভাইরাসটি। আর আমাদের দেশে শিশুদের হাম–রুবেলার মতো নানা ধরনের ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয় নিয়মিত। অনেকেই ভাবেন, এগুলোতে করোনা নিরাময় হবে। আসলে বিষয়টি তা নয়, এ ধরনের টিকা সরাসরি করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ না করলেও প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। অর্থাৎ জটিল ধরনের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে পারে। তাই আপনার শিশুদের এই টিকাগুলো খাওয়ানো উচিত। আর করোনার টিকা দেওয়া হলেও আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হতে পারে।

যাঁদের পুরোনো জটিল রোগ রয়েছে, তাঁদের নিয়ে অধ্যাপক হারিসুল হক বলেন, যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস; যাঁদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি রয়েছে; বৃদ্ধ, ক্যানসারে আক্রান্ত রোগী; যাঁদের অতিরিক্ত ওজন; তাঁদেরই কোভিডে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক বেশি। করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহারের বিকল্প নেই। পাশাপাশি মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধিও। আমাদের দেশে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা কঠিন, তারপরও যতটা সম্ভব তা মেনে চলা উচিত। ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে; অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

Post a Comment

0 Comments